গরুর কৃমির অনেক জাত রয়েছে। এসব কৃমি শরীরের ভেতর থেকে রক্ত প্রোটিন ভিটামিন ও খনিজ শোষে নেয়। তাই আমাদের উচিত দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শে গরুর কৃমির ঔষধ সেবন করানো। আমাদের আর্টিকেলের মাধ্যমে জানাবো, গরুর কৃমির ঔষধ খাওয়ানোর নিয়ম, ১টা গরুর কৃমি ট্যাবলেট কয়টা, গরুর কৃমির ডোজ, গরুর কৃমির ঔষধ খাওয়ার পর কি ভিটামিন খেতে হয়, গরুর কৃমির ঔষধের নাম, গরুর কৃমির ঔষধ কোনটা ভালো, গরুর কৃমির ঔষধের দাম। আমাদের আর্টিকেল থেকে বিস্তারিত জানতে মনোযোগ সহকারে পড়ুন।
গরুর কৃমির ঔষধ খাওয়ানোর নিয়ম
গরুর বয়স ওজন ও কৃমির ধরণ জেনে বুঝে ঔষধ খাওয়াতে হয়। বর্ষার শুরুতে এবং শীতের শুরুতে গরুর কৃমির ঔষধ খাওয়ানো হয়। বাছুরের জন্মের ৩-৪ মাস বয়সে কৃমির ঔষধ খাওয়ানো হয়। এছাড়াও বাচ্চা হওয়ার ২ মাস আগে গরুর কৃমির ঔষধ খাওয়ালে ভালো হয়।
সকালে খালিপেটে গরুর কৃমির ঔষধ খাওয়ানো হয়। কৃমির ঔষধ খাওয়ানোর আগে ৮-১০ ঘন্টা খাবার খাওয়ানো যাবেনা শুধু পানি খাওয়ানো যাবে।
পানি কিংবা গুড়ের সাথে কৃমির ঔষধ মিশ্রিত করে খাওয়াতে হবে। গরুর মাথা সামান্য উচু করে ধরে কৃমির ঔষধ গিলিয়ে দিতে হবে।
১টা গরুর কৃমি ট্যাবলেট কয়টা
১টা গরুর কৃমি ট্যাবলেট কয়টা খাওয়াতে হবে সেটা নির্ভর করে দৈহিক ওজনের উপর। ওজনের উপর নির্ভর করে গরুর কৃমির ট্যাবলেট সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়।
গরুর কৃমির ডোজ
গরুর দৈহিক ওজন ১০-২০ কেজি হলে ১/৪ টি বোলাস। ২১-৪০ কেজি হলে ১/২ টি বোলাস। ৪১-৭৫ কেজি হলে ১টি বোলাস। ৭৬-১৫০ কেজি হলে ২টি বোলাস। ১৫১-২২৫ কেজি হলে ৩টি বোলাস। ২২৬-৩০০ কেজি হলে ৪টি বোলাস। ৩০১-৩৭৫ কেজি হলে ৫টি বোলাস। ৩৭৬-৪৫০ কেজি হলে ৬টি বোলাস খাওয়াতে হবে।
গরুর কৃমির ঔষধ কতদিন পর পর খেতে হয়
গরুর কৃমির ঔষধ বছরে দুবার অর্থাৎ ৬ মাস পর পর খাওয়ানো হয়। বিশেষ করে বর্ষার শুরুতে এবং শীতের শুরুতে খাওয়ালে ভালো হয়। বাছুর জন্মানোর পর ৩-৪ মাস বয়সে কৃমির ঔষধ খাওয়ানো হয় এরপর থেকে ৬ মাস পর পর।
গরুর কৃমির ঔষধ খাওয়ার পর কি ভিটামিন খেতে হয়
কৃমি শরীরের ভেতর থেকে রক্ত প্রোটিন ভিটামিন ও খনিজ শোষে নেয়। কৃমি মারা গেলে পুষ্টির ঘাটতি পূরণের জন্য ভিটামিন বা মিনারেল সাপ্লিমেন্ট দিলে দ্রুত শক্তি ফিরে পায় পাশাপাশি দুধ ও ওজন বৃদ্ধি পায়। কৃমির ঔষধ খাওয়ানোর পর মাল্টিভিটামিন ও মাল্টিমিনারেল, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, ভিটামিন এ ডি ই খাওয়ানো হয়। কৃমির ঔষধ খাওয়ানোর ২ দিন পর থেকে ৭ দিন ভিটামিন খাওয়াতে পারেন।
গরুর কৃমির ঔষধের নাম
গরুর কৃমির ঔষধের নাম হচ্ছে এলটি ভেট, এলটি জল, লিভা প্লাস, লিভাবেন, লিভেক্স, নাভাডেক্স, পলিভা টি ভেট, রেনাডেক্স, ট্রাইবেন এল, ট্রাইমিসল। এছাড়াও, এলডাজল, এলমেক্স, আলরেক্স, আলজল, আজল ভেট, এসকাজল, হেলমেক্স। আরো রয়েছে এমেকটিন, এমেকটিন প্লাস, ভার্মিক ইত্যাদি।
গরুর কৃমির ঔষধের দাম
গরুর কয়েকপ্রকার কৃমির ঔষধ রয়েছে যেমন আইভারমেকটিন, আলবেনডাজল, ট্রাইক্লেবেন্ডাজল+লিভামিসল। এই তিন জেনেরিকের অসংখ্য কোম্পানির অসংখ্য নাম রয়েছে এবং একেক কোম্পানীর একেক দাম। DIMS Vet Apps অথবা MedEx এ প্রত্যেকটার মূল্য দেখতে পারবেন।
গরুর কৃমির ঔষধ কোনটা ভালো
গরুর কৃমির ঔষধ আইভারমেকটিন, আলবেনডাজল, ট্রাইক্লেবেন্ডাজল+লিভামিসল কোনোটিই কম নয়। প্রত্যেকটাই কৃমিনাশক ঔষধ হিসেবে ভালো পরিচিতি আছে। তবে আপনি প্রাণীসম্পদে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করলেই আপনার গরুর জন্য কৃমিনাশক ঔষধ কোনটি প্রয়োজন সেটা ডাক্তার প্রেসক্রিপশন করে দিবে।
উপসংহার
আমাদের আর্টিকেলের মাধ্যমে জানালাম, গরুর কৃমির ঔষধ খাওয়ানোর নিয়ম, ১টা গরুর কৃমি ট্যাবলেট কয়টা, গরুর কৃমির ডোজ, গরুর কৃমির ঔষধ খাওয়ার পর কি ভিটামিন খেতে হয়, গরুর কৃমির ঔষধের নাম, গরুর কৃমির ঔষধ কোনটা ভালো, গরুর কৃমির ঔষধের দাম। আমাদের আর্টিকেল ভালো লাগলে কমেন্টে জানাবেন এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করবেন। ধন্যবাদ।



