আমরা ভাত মাছ খাওয়ার সময় গলায় মাছের কাটা আটকে যেতে পারে। আমরা বিভিন্ন উপায়ে ঘরোয়া পদ্ধতিতে মাছের কাটা বের করার চেষ্টা করি। কিন্ত মাছের কাটা গলা থেকে বের না করতে পারলে আমরা হোমিওপ্যাথি ঔষধের মাধ্যমে গলার কাটা নামাতে পারি। এছাড়াও আমরা যতদ্রুত সম্ভব ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়ার চেষ্টা করবো। কারণ ডাক্তার চিকিৎসার মাধ্যমে খুব দ্রুত কাটা নামিয়ে ফেলতে পারে। চলুন জেনে নেই, গলায় মাছের কাটা বিধলে করণীয় কি কি। গলায় মাছের কাটা আটকালে করণীয় কি কি। গলা থেকে মাছের কাঁটা বের করার উপায় সম্পর্কে জানতে আমাদের আর্টিকেলটি পড়ুন।
গলায় মাছের কাটা বিধলে করণীয় । গলায় মাছের কাটা আটকালে করণীয়
গলায় মাছের কাটা বিধলে বা গলায় মাছের কাটা আটকালে প্রাকৃতিকভাবে ঘরোয়া উপায়ে মাছের কাটা বের করা যেতে পারে।
সাদা ভাত দলা করে খেতে হবে এবং চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে মাছের কাটা নামানোর জন্য। এরপর বেশি বেশি পানি পান করতে হবে।
কাশির মাধ্যমে মাছের কাটা বের করে আনতে পারেন। কাশি দিলে মাছের কাটা সামনের দিকে চলে আসার সম্ভাবনা থাকে।
লবণ পানি দিয়ে মাছের কাটা গলা থেকে বের করতে পারেন। হালকা গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে পান করতে পারেন। তাহলে মাছের কাটা গলে ভিতরে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
ঠান্ডা কোমল পানির মাধ্যমে মাছের কাটা বের করতে পারবেন। কোমল পানিতে লেবু মিশিয়ে একটু একটু করে খেলে মাছের কাটা নরম হয়ে ভিতরে চলে যাবে।
গলা থেকে মাছের কাটা নামাতে ভিনেগার দারুণ কাজ করে। সামান্য পানির সাথে সামান্য ভিনেগার মিশিয়ে খেলে খুব দ্রুত গলা থেকে কাটা নেমে যায়। তাই আপনি ভিনেগারের মাধ্যমে মাছের কাটা গলা থেকে নামানোর চেষ্টা করবেন।
গলায় কাটা বিধলে দ্রুত এক চা চামচ অলিভ ওয়েল খেয়ে নিতে পারেন। অলিভ ওয়েল এক প্রকার পিচ্ছিল তেল। গলা থেকে পিছলে মাছের কাটা নেমে যেতে পারে। তবে অতিরিক্ত অলিভ ওয়েল খাওয়া ঠিক হবেনা।
পাকা কলা কিংবা পাউরুটি দুধে ভিজিয়ে খেলে গলার কাটা নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। পাউরুটি নরম থাকে তাই রুটির সাথে কাটা খুব দ্রুত নেমে যেতে পারে। পাউরুটি দুধে ভিজিয়ে খেলে আপনি ভাল রেজাল্ট পেতে পারেন।
গলায় কাটা নামানোর দোয়া । মাছের কাটা বের করার দোয়া
জীবনে সকল সমস্যার সমাধান রয়েছে। গলায় কাটা বিধলে আপনাকে এতো চিন্তিত হওয়ার প্রয়োজন পড়েনা। আপনি পবিত্র হয়ে বিসমিল্লায় বলে গলা মালিশ করা শুরু করুন। গলায় কাটা নামানোর দোয়া রয়েছে। মাছের কাটা বের করার দোয়া আপনি পড়তে থাকুন তাহলে মাছের কাটা গলাথেকে বের হওয়া সম্ভব। ওয়াকিয়া সূরার ৮৩ নাম্বার আয়াত বারবার পড়ে ফু দিলে গলার কাটা বেরিয়ে যাবে। আয়াতটি হলো “ফালাওলা ইযা-বালাগাতিল হুলকুম”। এর অর্থ- অতঃপর যখন কারো প্রাণ কন্ঠাগত হয়।
গলায় কাটা কতদিন থাকে
গলায় কাটা বেশিদিন থাকেনা। গলায় মাছের কাটা বিধলে বিভিন্ন প্রাকৃতিক চেষ্টার মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যে বের হয়ে যায়। অনেকের আবার মাছের কাটা দীর্ঘদিন গলায় বিধে থাকে। তবে মাছের কাটা গলায় দীর্ঘদিন বিধে থাকলে প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারেন।
মাছের কাটা পেটে গেলে কি হয়
মাছের কাটা পেটে গেলে বিভিন্ন ঝুকিতে পড়তে পারেন। মাছের কাটা পেটে গেলে পেটে অস্বস্থি ও ব্যাথা অনুভব করতে হয় এছাড়াও রক্তক্ষরণ হতে পারে। কাটা পেটে পৌছালে আঘাত অনুভব হয় এবং অন্ত্র ছিদ্র হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বিভিন্ন ইনফেকশন দেখা দিতে পারে তাই খুব দ্রুত ডাক্তারের নিকট পৌছানো প্রয়োজন।
গলায় কাটা বিধলে কি হয়
গলায় কাটা বিধলে গলায় অস্বস্থিকর ব্যাথা সৃষ্টি হয়। ভাত পানি খেতে সমস্যা হয়। যন্ত্রনাদায়ক ব্যাথার জন্য খাবার খেতে সময় হয়। রাতে ঘুম কম হয়। তাই প্রাকৃতিক উপায়ে মাছের কাটা না বের হলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
গলায় মাছের কাটা ফুটলে হোমিও ঔষধ
অনেকসময় দেখা গেছে ঘরোয়া উপায়ে চেষ্টা চালিয়ে গলা থেকে মাছের কাটা নামানো সম্ভব হয়না। তাই গলা থেকে মাছের কাটা নামানোর জন্য হোমিওপ্যাথি ঔষধ ব্যবহার করতে পারেন। ঘরে আপনারা ইমার্জেন্সিভাবে এক শিশি সাইলেসিয়া রাখতে পারেন। এই হোমিও ঔষধ এর মাধ্যমে গলায় আটকে থাকা মাছের কাটা দ্রুত গলিয়ে নামিয়ে দেয়। যে কোন হোমিও ফার্মেসীতে এই ঔষধটি পাবেন।
গলার কাটা বের না হলে
ঘরোয়া উপায়ে মাছের কাটা গলা থেকে বের না হলে হোমিও ঔষধ দিয়ে চেষ্টা করতে পারেন। সাইলেসিয়া নামক হোমিও ঔষধ মাছের কাটা গলিয়ে নামিয়ে দেয়। এছাড়াও ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারেন।
সতর্কতা
ঘরোয়া উপায়ে মাছের কাটা না বের হলে খুব দ্রুত সরকারী হাসপাতালে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। ডাক্তার খুব দ্রুত চিকিৎসার মাধ্যমে মাছের কাটা বের করে আনতে পারে।



