ভিমরুল কামড়ালে করণীয় । ভিমরুল তাড়ানোর উপায়

ভিমরুল একটি ভয়ঙ্কর পতঙ্গ। ভিমরুল গাছের ডালে ঝোপঝাড়ে বাসা বাধে। ভিমরুলের পিছনে যে হুল রয়েছে, এটি ফুটালে মানুষ যন্ত্রণায় খুব কাতর হয়ে পড়ে। ভিমরুলের কামড়ে অনেকসময় মানুষ মারা যায়। মানুষের মধ্যে এক প্রতার আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। এজন্যই ভিমরুলকে মানুষ ভয়ঙ্কর পতঙ্গ নামে চিনে। যেখানে ভিমরুলের বাসা রয়েছে সেখানে মানুষ বসবাস করতে পারবেনা। ভিমরুলের বসবাসের স্থান থেকে মানুষকে দশহাত দুরে থাকতে হবে। কারণ ভিমরুত মানুষকে দেখলেই আক্রমণ করে বসে। অনেকসময় মানুষের বাসস্থানের পাশে ভিমরুলের বাসা না থাকলেও জানালার ফাক দিয়ে ঢুকে হুল ফোটায়। তাই একটু সাবধানতা ও সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। আমাদের আর্টিকেলে জানাবো, ভিমরুল কামড়ালে করণীয়, ভিমরুল তাড়ানোর উপায়, ভিমরুল দেখতে কেমন, ভিমরুল কামড়ালে ঘরোয়া চিকিৎসা ইত্যাাদি।

ভিমরুল কামড়ালে কি হয়

ভিমরুল ভয়ঙ্কর একটি পতঙ্গ। ভিমরুল কামড়ালে শরীরে বিষক্রিয়া সৃষ্টি হয় ফলে অসহ্য যন্ত্রণা হয়। এই যন্ত্রণা সহ্য করার মতো নয়। একেক জনের শরীরে একেক রকম প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। কারো কারো জ্বর ব্যাথা, আবার কারো পাশাপাশি বমিও হয়। ভিমরুল কামড়ালে মারাত্মক যন্ত্রণাদায়ক ব্যাথা হয়। অনেকেই ভিমরুলের কামড়ে যন্ত্রণা সহ্য করতে না পারায় মৃত্যু ঘটে। ভিমরুলের ব্যাথা অনেক কষ্টকর ও যন্ত্রণাদায়ক হয়। তাই ভিমরুলের বাসার আশে পাশে থাকা যাবেনা। আশে পাশে ভিমরুলের বাসা থাকলে ভেঙ্গে দিতে হবে সতর্কতামূলক ভাবে।

ভিমরুল কামড়ানোর পর করণীয়

ভিমরুল কামড়ানোর পর প্রথম অবস্থায় ঘরোয়া টিপস কাজে লাগাতে হবে। ভিমরুল কামড়ালে প্রথম অবস্থায় আক্রান্ত স্থানে স্যানিটাইজার, লেবুর রস, তেতুলের পানি, ভিনেগার ইত্যাদি ব্যাবহার করে দেখতে পারেন। এছাড়া এন্টিসেপটিক ক্রিম, ব্যাথানাশক ঔষধ যেমন প্যারাসিটামল, এন্টিহিস্টামিন ট্যাবলেট খেতে হবে। ভিমরুলের কামড় খুবই মারাত্মক ও যন্ত্রণাদায়ক তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারেন।

ভিমরুল দেখতে কেমন

ভিমরুল দেখতে অনেকটাই মৌমাছির মতো কিন্তু মৌমাছির চেয়ে আকারে অনেক বড়। ভিমরুল দেখতে কালো এবং বোলতা দেখতে হলুদ। ভিমরুল ও বোলতার কামড় অনেক বেশি যন্ত্রণাদায়ক ও ক্ষতিকর।

ভিমরুল কামড়ালে ঘরোয়া চিকিৎসা

ভিমরুল কামড়ালে প্রাথমিক অবস্থায় ঘরোয়া চিকিৎসার মাধ্যমে ব্যাথা উপশম করতে পারেন। চলুন জেনে নেই ভিমরুল কামড়ালে ঘরোয়া চিকিৎসা।

ভিমরুল বা বোলতা কামড়ালে আক্রান্ত স্থানে ভেজা মাটি লাগিয়ে দিলে ব্যাথা অনেকাংশে কমে যায়।

টুথপেষ্ট ব্যাথার ঔষধ হিসেবে কাজ করে। ভিমরুল কামড়ালে আক্রান্ত স্থানে টুথপেষ্ট লাগালে ব্যাথার যন্ত্রণা খুব দ্রুত নিরাময় হয়।

রসুন এন্টিবায়োটিকের মতো কাজ করে। ভিমরুল কামড়ালে আক্রান্ত স্থানে রসুন লাগালে ব্যাথা তাড়াতাড়ি সেরে যায়।

লেবুর রসে থাকে এসিড, ফলে এই এসিড যন্ত্রণা অনেক কমিয়ে দেয়। আক্রান্ত স্থানে লেবুর রস লাগালে ব্যাথা উপশম হয়।

ভিমরুল কামড়ানোর পর ভিনেগার লাগালে ব্যাথা অনেকটাই কমে যায়।

ভিমরুল কামড়ানোর পর খেয়াল রাখতে হবে ভিমরুলের হুল লেগে আছে কিনা। হুল সরিয়ে ফেলতে হবে। তানাহলে ব্যাথা সারাতে পারবেননা।

ভিমরুল কামড়ানোর পর আক্রান্ত স্থানে এন্টিসেপটিক দিয়ে ধুয়ে ক্ষত স্থানে বরফ দিলে যন্ত্রণা অনেকটাই কমে যায়।

ভিমরুল থেকে বিশেষ সতর্কতা

বাড়ির আশেপাশে ভিমরুলের বাসা দেখলে তাড়ানোর জন্য ঢিল ছুড়বেননা। দিনের বেলায় ভিমরুলের বাসায় কোনভাবে আঘাত করার চেষ্টা করবেননা, এতে ভিমরুল আপনার উপর আক্রমণ করে দিতে পারে। ভিমরুল আক্রমণ করলে দেরি না করে আশেপাশে পুকুর পেলে নেমে যাবেন। ভিমরুল কামড়ালে আক্রান্ত স্থানে সাবান পানি দিয়ে ধুয়ে বরফ দিন।

ভিমরুল তাড়ানোর উপায়

ভিমরুল তাড়ানোর অন্যতম উপায় হচ্ছে ভিমরুলের বাসা পুড়িয়ে ফেলা। রাতের বেলা ভিমরুলের বাসা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিতে হবে। যে পর্যন্ত পুরোপুরি না পুড়বে সে পর্যন্ত ভিমরুল তাড়ানো সম্ভব হবেনা। প্রথমে ভিমরুলের বাসা কোথায় রয়েছে দেখতে হবে। তারপর রাত হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তারপর আগুন দিয়ে বাসা পুড়িয়ে দিতে হবে। বাসা পুড়ে গেলে ভিমরুলগুলো পুড়ে যায়। এভাবেই ভিমরুল তাড়ানোর জন্য কাজ করতে হবে।

শেষ কথা

ভিমরুল কামড়ালে শরীরে বিভিন্ন জায়গায় নানান সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই প্রাথমিক অবস্থায় ঘরোয়া পদ্ধতিতে ব্যাথা উপশম করার চেষ্টা করোন। যদি কোন সমাধানে না আসে, যন্ত্রণা না কমে তাহলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। কারণ ভিমরুলের বিষ খুবই মারাত্মক ও যন্ত্রণাদায়ক। এছাড়াও আমাদের সবসময় সতর্কতা ও সাবধানতা অবলম্বণ করতে হবে।

Leave a Comment